বাহিরে তুমুল বৃষ্টি। সেই সকাল থেকে আকাশটা কাঁদছে। আর তখন থেকেই আমার মনটা উদাসী মেঘের নিবিড় বন্ধু। শুয়ে শুয়ে সবার কথা ভাবছিলাম। হঠাত তোর ভাবনাতে এসে পোস্তাদানা মনটা ব্রেক করলো আচমকাই। কি জানি কি মনে হলো তোকে লিখতে বসে গেলাম। মনের অনুরোধে কয়েকটা ঘন্টার জন্য চলে আসলাম এফবিতে। অনেক দিন লিখিনা তোকে নিয়ে। তোর মত এমন রোমান্স পাগল বন্ধুর জন্য সময়গুলো যে শুন্যতা মনে হয় না তাও কিন্তু না। খুব ইচ্ছে করে আগের মত চুটিয়ে আড্ডা দেই তোর সংঙ্গে তোদের সংঙ্গে। কিন্তু কেন যেন সব আগোছালো ইদানীং। আমার কি মনে হয় জানিস, একটা সম্পর্ক যতটা গভীরে যাওয়ার চেষ্টা, অগভীরতা সেখানেই তত বেশি প্রকট। শুন্য দিয়ে যার শুরু, শুন্য দিয়েই তার শেষ।
কবিতা লিখছি হুলস্থুল, কোন দিন তো নিজ থেকে জানতে চাইলি না কী লিখছি। কিংবা লেখা পড়ে পচা বা ভালো বলার ইচ্ছাও হলো না তোর। শব্দ চয়নে বেশ সাহস দেখাচ্ছি। আমার মত চিন্তা ভাবনার আটপোরে বাংঙ্গালি ছেলের পক্ষে "কলিজা" (কলিজা বলে ডাকা) শব্দটা সাহসের বৈকি। হাসছিস না কেন? এই লাইন পড়ে তো তোর হাসির কথা!
কিছুদিন ধরে অনলাইনে খুব লিখেছি বিশেষত তোর কিছু ভাবনাগুলো মিলিয়ে নিলাম আমার চেনা তোর সংঙ্গে। খুব যে মিললো তাও না,আবার অমিলটাও নগণ্য।তোর তীরটা এবার ছেলেদের দিকে ছোড়! একটা মেয়ের একটা ছেলেকে বেশি দিন ভালো লাগে না। সে ক্ষেত্রে নারী হিসেবে আদৌ কোন দিকটা তোর ভালো লাগবে! এখন তোকে একটা প্রশ্ন করি, সব কিছু জেনেও অর্থাৎ ছেলেটার সবরকম দুর্বলতা জানার পরও সে যদি তোকে ভালোবাসতে চায়, তোর সংঙ্গে চলতে চায় তাহলে কি তুই তার হাতে হাত রাখবি? ধাধাময় একটা প্রশ্ন মনে হচ্ছে তাই না? তবে সাধারণ বাংঙ্গালি নারীগুলো নিজেকে যতই ভালো স্বীকার করুক না কেন, স্বামী চাই স্মাট ছেলে, বৃত্তবান এবং তাদের মনটা লোকাল বাসের মত পরিবর্তনীয়। এবং এটাই বড় কৌতুক।
বন্ধু, পূর্ণিমায় সমুদ্র দেখেছিস কখনও? কিংবা বৃষ্টি ঝড়তে দেখেছিস? হুমায়ূন আহম্মেদের দারুচিনি দ্বীপ পড়ে কি যে ইচ্ছে হয়েছিলো আমার দুর্দান্ত এক ফ্রেন্ড সার্কেল থাকবে। তোকে নিয়ে অনলাইনগুলোতে সবার সাথে আড্ডা দিবো দিনে রাতে সারাক্ষণ। তারপর তোকে নিয়ে চষে বেড়াব পুরো বাংলাদেশ। মহেঞ্জোদারো, সেন্টমার্টিন, চা বাগান, নেত্রকোনা বিরিশিরি। শুধু তাই নয় তোকে নিয়ে আরো ঘুরবো ভারতের কাশ্মীর দার্জিলিং মত এবং নেপালের এভারেস্টে। সব হাতের মুঠও বন্ধু তোর সান্নিধ্য, অথচ আর হলো কই! কেউ কি নেই আমার কষ্টে পাশে এসে দাড়ানোর? হাতটা ধরে আশ্বস্ত ভংঙ্গিতে বলা, 'আমি তো পাশেই আছি" (জানি তুই বলবিনা তবুও আশায় থাকি)। আমার কালো চাদিয়ালটা বৈশাখী বাতাসে ঝরা পাতার মত বেখেয়ালি হুটোপুটির পর মুখ তুবড়ে পড়ে থাকে হৃদয়হীন কারো কাছে। অথচ এই আমি আবার চাই উড়ুক ঘুড়ি। আবারও আমি আমার ক্ষয়িণ্ষু হৃদপন্ডিটা ঝেড়েঝুড়ে কালিঝুলি পরিষ্কার করে চকচকে করে তুলি। কোন এক রোদমরা বিকেলে সবুজ ঘাসে পা ডুবিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে চেনা নাটাই হাতে তৃপ্তির হাসি হাসব বলে। কিন্তু আরো কষ্ট হয় প্রিয় স্বপ্ন, প্রিয় গহিন চাওয়া। শক্তি থাকেনা উঠে দাড়াবার। আরো একবার মুখ তুলে আকাশখানা দেখবার। বিকেল গড়ায় সন্ধ্যা নামে, রাত বাড়ে, প্রহর শেষে শিয়াল ডাকার আওয়াজ শুনি, ঝিঝি পোকার বুনো ডাক মনে হয় রবিশংকরের সেতার ড্রামবিটের শব্দ শুনি, হৃদপিন্ডের হাপর টানার শব্দ। এক পশলা বৃষ্টি ওই মেঘহীন আকাশ। শুকতারা হাতের করতলে ঠিক চাঁদকপালি হয়ে মিটিমিটি জ্বলছে আর নিভছে। আমি মোহময় মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে আছি। একে একে তারাগুলো অচেনা হয় দিনের আলোর গহিন ফাদে। উঠি উঠি করে সুর্যি মামা উকি দেয় চোখের জানালার কর্নিশ ধরে। কেপে উঠে চোখের পাতা। শিশির টুপ করে ঝড়ে পড়ে ঠোটের উপর। ধড়ফড় করে জেগে উঠি। আকুলতা নিয়ে তাকাই দূর গহিনে সরু হয়ে যাওয়া ঘাসহীন পথটার দিকে। এক মোহনীয় অর্গানের স্বপ্ন ভাংগানিয়া সুর আমার সব দু:খ ভুলিয়ে দেয়।
মানুষের ভেতর আর শেকড় গেড়ে বসতে ইচ্ছে করে নারে। কারন সে হারাবেই। মাঝে মাঝে দেখা হলে বেশ হয়। সেটাও হয়ে উঠে না। হুট করে হড়বড় করে বলে ফেলা যাবে অনেক কথাই। চিঠি লিখবি? বলবি আমি তোমার পাশে আছি এবং থাকবো? এটা অনুরোধ নয়, আবদার। ললিপপ চাইবার মত আবদার। রাখবি? জানি তুই ভালো থাকবি। সব কিছু নতুন করে গড়বি। কিন্তু আমি যে তো অপেক্ষায় স্বর্গের খুব কাছাকাছি তা জানিস? সব কিছু তোর কাছে মনে হয় অবিশ্বাস, যেদিন স্বর্গময় হবো সেদিন বুঝবি বিশ্বাস। ভালো থাকিস।
তোর জন্য কবিতার লাইনটুকু।
জীবনসংঙ্গি হতে চেয়ে তোমার
বাড়িয়ে ছিলাম হাত,
ফিরিয়ে দিয়ে শত্রু বানিয়ে
করলে আকস্মাৎ।
কি ছিলো দোষ আমার তাতে
কিংবা অভিমান,
বুকের মাঝে বাজছে আজো
কষ্টে ভরা গান।
ফিরিয়ে দিলেও বন্ধু আজও
হাত বাড়িয়ে আছি,
নাইবা হলাম বন্ধু তোমার
শত্রু হয়েই বাচি।

No comments:
Post a Comment