ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে উড়াল দিচ্ছিলাম। হ্যা, উড়াল দিচ্ছিলাম। ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে সাধারণ মানুষ হাটে না। নিচ দিয়ে হাটে। উপর দিয়ে গাড়ি চলে। কিন্তু উপর দিয়েই হাটি। হাটি না ঠিক, উড়াল দেই। দ্বিতীয় কারন আমি আধুনিকতা পছন্দ করি। মন্দ জিনিসের ভালো দিকটা খুজে বের করি। ইদানীং ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে না হাটাই ভালো। গাড়ি নিয়ে যেতেও মানুষ ভয় পায়। যেখানে ফ্লাইওভার ভেংগে পড়ছে তাতে নিচ দিয়ে হেটে যাওয়া দু:সাহস দেখানোই বলা চলে। কিন্তু আমি চালাক মানুষ। অনেক ভেবেচিন্তে দেখলাম ভাংলেতো নিচে ভেংগে পড়বো। উপরে না। তাই আমি উপর দিয়ে হাটি। উপরে জ্যামও তুলনামূলক কম। অনেক জায়গা নিয়ে হেলেদুলে হাটা যায়।
এভাবে কয়েকদিন যাতায়াতে আমার নাগরিক জীবনে বেশ স্বস্তি ছিলো। কিছু দিন না যেতেই দেখা দিন অস্বস্তির। নাগরিক জীবনে নাগরিকতাময় দেখা পেলাম। ফ্লাইওভার গা ঘেঁষে এক সুউচ্চ বিল্ডিংয়ের বারান্দায় প্রতিদিন সকাল ১০ টায় এক সুন্দরি চুল শুকাতে আসে। রোদ উঠার সংগে সংগে আমি সে প্রকৃতির স সৌন্দর্য উপভোগ করি। রোজ আমাদের দেখা হয়, চোখাচোখি হয়, আড়ালে হাসাহাসি হয়। আহ! নাগরিক ফ্লাইওভারের জীবন। বেশ ভালোই কাটছিলো।
এভাবে দুএক মাস যাওয়ার পর একদিন চিন্তা করলাম চোখাচোখি ধাপ অনেক ধীর্ঘ হল। আর কত! ভাবলাম সুন্দরির সংগে কথা বলবো। অন্তত নামটা জিজ্ঞেস করবো। বারান্দার গ্রিলেত কাছে গিয়ে বলবো, এই যে শুনছেন?
প্রতিদিনের মত সেদিনও এই ভাসনা নিয়ে ফ্লাইওভার দিয়ে হাটছিলাম। এক সময় কাংখিত বিল্ডিং এর বারান্দার পাশে গিয়ে দাড়ালাম। দাঁড়িয়ে আছি, তো আছি! আছি তো আছিই! দেড়টা ঘন্টা গেলো কেউ কথা রাখলো না! বেদের মেয়ে জোছনাও তো ফাঁকি দিয়ে শেষমেশ এসেছিল, অথচ ফ্লাই ওভাবেরসুন্দরি আর এলো না।
উকি দিয়ে বুঝলাম, আসেনি, আর বুঝি আসবেও না। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাংলা সিনেমার 'অ অ আ আ আ' বেজে উঠলো! দেখলাম ওদের বাসায় সব ফাকা। কোন ফার্ণিচার নেই, কিচ্ছু নেই! এ কি হলো। নিজেকে প্রেমিক নয়, মনে হয় এক বাপ্পারাজ!
মন খারাপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। পিছন থেকে লোকজনের চিতকার, এই ভাই সাইড দেন। এভাবে দাঁড়ায় থাকলে আমরা হাটুম কেমনে? আপনের বাপের ফ্লাইওভার?
কাটা গায়ে নুনের ছিটকাক মত মনে হল। শালার ভাঙালি, তোদের জন্য ফ্লাইওভারের নিচেও সুখ নাই, উপরেও সুখ নাই। নিচ থেকে উড়াল দিয়ে উপরে আসলাম। যে একটা প্রেম হতে যাবে, তাও আবার উড়াল দিলো! ফ্লাইওভার ভাংঙ্গে নি তাতে কি, মন তো ভেঙেছে! মন ভাংঙা যদি মসজিদ ভাংগা সমান হয়, ফ্লাইওভার ভাংঙার চেয়ে তো বেশি কিছু বটেই!

No comments:
Post a Comment