Wednesday, 23 August 2017

হিমুর হাতে চিকুনগুনিয়ার ওষুধ


গত কয়েকদিন ধরে বাদলের জ্বর ও শরীর ব্যথা। মাজেদা খালা এই জ্বরের নাম দিয়েছে খই ফোটা জ্বর, মানে জ্বর আক্রান্ত ব্যক্তির কপালে ধান রেখে দিলে সেটা ফুটে খই হয়ে যাবে।
বাদল সেই সন্ধ্যা থেকে হিমু ভাই হিমু ভাই করে অস্থির। এদিকে হিমুকে ফোন দিয়ে কোন ক্রমেই পাওয়া যাচ্ছে না। মাজেদা খালা ফোন করতে করতে মোবাইলের চার্জ শেষ করে ফেলেছেন, কিছুক্ষণ চিতকার চেঁচামেচি পর পাওয়ার ব্যাংক লাগিয়ে শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
আরে গাধা, তুই যে দেশেই যাস, সেখানে গিয়ে হিমুগিরি করিস, ফোনটা তো একবার রোমিং করে হলেও সংঙ্গে নিয়ে যাবি বললে বলতে রাগে গজ গজ করতে করতে হিমুর পুরনো নম্বরে একটা ফোন দিলেন তিনি। মাজেদা খালার স্বভাব হলো,  তিনি ফোন দিলে একবার দেন না। তবে ফোন দেওয়া মানেই, টোটাল তিন বার ফোন দিবেন। বেশিও না কমও না। দানে দানে তিনবার।
পুরনো নম্বরে করা তৃতীয় এবং শেষ ফোনটা রিসিভ হলো।
-হ্যালো কে?
-কে মানে? আমারে চিনিস না তুই?
-দু:খিত জনাবা, আপনি ভুল নম্বরে চেষ্টা করেছেন........
-দ্যাখ হিমু আমার সংঙ্গে নাটক করতে আসবি না। আমি তোর শালাও না দুলাভাই ও না যে আমার সংঙ্গে মশকরা ফলাবি! তোর মত হাজার হাজার অভিনেতা আমার ভ্যানিটিব্যাগে নিয়া ঘুরি। তুই দশ মিনিটের মধ্যে বাসায় আয়। বাদলের সম্ভবত চিকুনগুনিয়া হয়েছে। তোর নম্বর বন্ধ কেন?
-খালা! একটা ভয়ানক কান্ড ঘটে গেছে। আজ দেখলাম আমার বন্ধ সিমে ২০ জিবি ইন্টারনেট এবং ৩০০ মিনিট ফ্রি এসেছে। তাই বাধ্য হয়ে সিম পাল্টাইতে হয়েছে।
হিমু কথাটা শেষ করতে পারলো না ওপাশ থেকে, পুত পুত করে লাইনটা কেটে গেলো।
হিমু এখন মোটেও চিকুনগুনিয়া নিয়ে চিন্তিত না। তার মাথায় এখন গেমস আব থ্রোনস এর নতুন সিজন ঘুরছে। খালার বাসায় ফ্রি ওয়াইফাই, ইচ্ছে মত ডাউনলোড দেওয়া যাবে। মহাপুরুষদের নিশা ধরার কিংবা মোহ পড়ার নিয়ম নাই।
কিন্তু এই গেমস অব থ্রোনসের ব্যাপারটা মাথায় ঢুকে গেছে। হিমু যে অবশ্যই ঠিক দেখার জন্য দেখে, তা নয়। এই জিনিষ অন্যদের আগে দেখে তাদের স্পয়লার দিতে হিমুর ভালো লাগে। সবচেয়ে বেশি আনন্দ, রূপাকে স্পয়লার দিতে।
সুন্দরি নারীদের বিরক্ত হলে খুব সুন্দর দেখায়। ফোনে না দেখতে পেলেও হিমুর রূপার সেই রাগি রাগি বিরক্ত চেহারাটা কল্পনা করতে ভালো লাগে।
সমস্যা একটাই আছে, পাচ ফিট আট ইঞ্চি লম্বা সমস্যা।
খালু সাহেব প্রতিদিন ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে যাতে হিমু বাসায় এসে কিছু ডাউনলোড দিতে না পারে। তবে অবশ্য বেশি মাতাল হলে পাসওয়ার্ড বলে দেয়।

-এই হিমু এই! কোথায় চললেন?
হিমু পিছনে তাকিয়ে দেখে,  এই ভর দুপুরে রাস্তায় মিসির আলী।
-আর বলবেন না... ঝামেলা হয়ে গেছে। বাদলের তো মহাবিপদ, চিকুনগুনিয়াতে আক্রান্ত। ফু বাবার কাছে ফু আনতে যাচ্ছি।
মিসির আলী অসম্ভব যুক্তিবাদী এবং তীক্ষ বুদ্ধি সম্পন্ন। হিমুকে ভালো কথা বলে ওষুধ কেনানো যাবে বলে তার মনে হয় না। তিনি অন্য কৌশল খাটালেন-
-আপনি বরং এক কাজ করুন, ফু আনাচ্ছেন ভালো, সংঙ্গে কিছু চিকুনগুনিয়ার ওষুধ নিয়ে যান। যদি ফু রাস্তার কোথাও বাতাসে উড়ে যায়! তাহলে অন্তত কিছু তো নিয়ে যাওয়া হল! তাই না?
-হ্যা, এটা ভালো বলেছেন। ফু এর ধর্মই কিন্তু উড়ে যাওয়া। আচ্ছা" ওষুধ কোথায় পাওয়া যাবে?
-রাস্তার মোরে ফার্মেসিতে আছে। দাড়ান ওষুধের নামটা বলি..
-আচ্ছা আমি নিজেই জিজ্ঞেস করে নিবো, চলি মিসির সাহেব।
মিসির আলীর ধারনা, হিমু তারপরও চিকুনগুনিয়ার ওষুধ কিনবে না। সে দোকানে গিয়ে অন্য এক ওষুধের নাম বলবে। তবে তিনি বাধা দিলেন না। তার কেন যেন মনে হচ্ছে সেই ওষুধ খেয়ে বাদলের চিকুনগুনিয়া দুই দিনের মধ্যেই সেরে যাবে। ওষুধের কারনে ছাড়বে না, ছাড়বে বিশ্বাসের কারনে। বিশ্বাস অন্যরকম এক ওষুধ।
হিমু মোড়ের ফার্মেসী কাছাকাছি পৌচে গেছে। এখান থেকে সে রিক্সা নিবে। মাজেদা খালার বাসায় দ্রুত যাওয়া দরকার। বাদলকে সুস্থ করতে নয়, গেমস অব থ্রোনস ডাউনলোড করে দেখে পেলবে। রূপা দেখাত আগেই তাকে স্পয়লার দিতে হবে। এটা খুব জরুরি ব্যাপার।
হিমু রিক্সা নেওয়ার আগে একবার ফার্মেসি উকি দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, সি-ভিট আছে?

No comments:

Post a Comment

গরু হারিয়ে মতি ভাই আজ অজ্ঞান

তিল কে তাল করা মতি ভাইয়ের অভ্যাস। কোন কিছু ঘটার আগে তা ফলাও করে প্রচারনা না করলে তার ঘুম আসে না। কোরবানী এসে গেছে।, সবাই ইনবক্সে মতি ভা...