Sunday, 20 August 2017

যে কারনে অামি সিঙ্গেল


বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার পরও যদি কারো প্রেম না হয়, তখন সেটা মোটামুটি একটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অন্তত আমার বন্ধুমহল তাই বিশ্বাস করে।
এরকম হেন অপরাধের শাস্তিসরূপ প্রায়ই 'মেনশন করুন আপনার সেই বন্ধুটিকে যার বিশ্ববিদ্যালয় উঠেও এখনো প্রেম হয় নি' মূলত ফেসবুক পোস্টে টেগ খেতে হয়। আমি নিতান্তই বিরক্ত হই না, এটা বলা বড্ড বেশি বিনয় হয়ে যাবে বটে।
তবে এক বন্ধু অন্য বন্ধুকে খোঁচাবে এটাই স্বাভাবিক - সেই স্বাভাবিকতার সুত্র মেনে নিয়ে ওদের ফাকা মাঠে গোল দিতে দেই।
অন্যান্য দিনের মত আজও আড্ডা সেরে বাসায় ফিরলাম। মাথার ওপর কটকটে সূর্যের একত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে না পেরে ঠিক করলাম আইসক্রিম খাবো। ক দিন আগের বৃষ্টি কোথায় গুম হয়েছে কে বলবে। ডাইনোসরের ফসিল খুজে পাওয়া যেতে পারে, তবে গুম কিছু এখানে খুজে পাওয়া দুষ্কর।  যে ভাবা সেই কাজ! বাসার নিচের ছোট দোকান থেকে আইসক্রিম কিনলাম। চারতালা উঠতে উঠতে পুরোটা শেষ হয়ে যাবে এই ভেবে আইসক্রিমের প্যাকেট ছিড়লাম। এরকম অসহ্য গরমের দিনে একটা আইসক্রিম পাওয়ার আকুলতা থেকে কবি ব্রুনো মার্স গেয়েছেন 'আই উইল ক্যাচ আ গ্রেনেড ফর ইয়া....'। আমি আরাম করে আইসক্রিম খেতে খেতে সিঁড়ি বেয়ে উঠছি। মনের সুখে গান গাইতে লাগলাম, আমার এক হাতে নুপুর, থুক্কু, আইসক্রিম আর অন্য হাতে আইক্রিমের প্যাকেট।
দোতলা উঠে গেছি। এমন সময় কে জেন খুব তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে ধাক্কা দিল। বাংলা সিনেমায় নাটকের এমন দৃশ্যে বোকা টাইপ চশমা পরা নায়কের চোখের চশমা পড়ে যাওয়া, তারপর  নায়ক নাইকা চশমা তুলতে গিয়ে মাথায় ঠোকাঠুকি।

আমার হাতে আইসক্রিম ছিলো। ধাক্কা খেয়ে সেটা ছিটকে পড়ে গেলো। যে ধাক্কা দিয়েছে সে আমার চেয়ে সিড়ির কয়েক ধাপ নিচে দাঁড়ানো অবস্থায় থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে গেলো। আমি আইসক্রিম হারানো বেদনা নিয়ে সেটা কুড়াতে গেলাম। একটা আধখাওয়া আইসক্রিম ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে ভেবেই দু:খের সঙ্গে আরও বেশি গরম লাগছিল।

'সরি, সরি! আপনি প্লিজ ওই আইসক্রিমটা আর খাবেন না। আপনাকে আমি আরেকটা আইসক্রিম কিনে দেই, চলুন!' এক নি:শ্বাসে বেশ ভারি কন্ঠে কথাগুলো বললো কেউ।
আইক্রিমের শোকে ধাক্কা খেয়ে থতমত ভঙ্গিতে দণ্ডায়মান ব্যক্তির কথা এতক্ষণ মাথায় ছিলো না। আমি আইসক্রিম তুলতে তুলতে বিরক্ত কন্ঠে বললাম, 'আইসক্রিম ডাস্টবিনে ফেলার জন্য তুলছিলাম। ময়লা যেখানে সেখানে ফেলতে নেই'।  কথা শেষ করে ব্যক্তিটির দিকে তাকালাম। মোটামুটি লম্বা, ফর্সা, চশমা পরা একটি সুন্দর মেয়ে। বয়সে আমার চেয়ে দুই তিন বছরের ছোট হবে। তাত দীপ্তিমান চেহারার দিকে তকিয়ে ভাবতে লাগলাম, এত সুন্দর মেয়ে আমাদের বিল্ডিং এ এলো কোথা থেকে?
উত্তর শুনে সে একটু খানি হাসলো। এমন চমতকার হাসির জন্য আইসক্রিম ফেলে দেওয়ার অপরাধ ক্ষমা করা যায়। বাংলা সিনেমার লজিক বলে 'ধাক্কা থেকে প্রেম'। কোন সুন্দরি মেয়ে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করলে যেমন ছেলেদের মনে কে জেন উকি দিয়ে বলে,' আমাদের মনে হয় বিয়ে হবে' আমারও তেমন মনের মধ্যে কে যেন উকি দিয়ে ফিসফিস করে বলে গেলো 'যাক, আজ থেকে আর কোন আজগুবি ফেসবুক পোস্টে ট্যাগ খেতে হবে না!' ভেবে আমিও একটু হাসলাম। আমি বললাম, না না ঠিক আছে। ঠিক আছে। মেয়েটা আবার সরি বলে সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেলো। 'সরি' শব্দ শুনেই কলিজাটা ঠান্ড হয়ে জিরো ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পরিণত হলো।

এর কিছুক্ষণ পর আমার হাসিটা গুম হয়ে গেলো। জিরো ডিগ্রি পরির্তন হয়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পরিণত হলো। সাথে সাথে মুখটাও পাতিলের তলার মত কুচকুচে কালা অনুভব করতে লাগলাম। মনের ভিতর মনে হচ্ছে একটা দুইটা নয়, চার পাচটা ডিনামাইট ফেটে গিয়ে রক্তাক্ত হয়ে যাচ্ছে। পুরো দেহটাই কিছুক্ষণের জন্য একটা হিরোশিমা শহরে পরিণত হলো।
মেয়েটির পিছনে পিছনে সিড়ি দিয়ে নেমেই দেখলাম একটি ছেলে বাইক নিয়ে অপেক্ষা করতেছিলো। তারপর যা হবার কথা তাই হলো। বাংলা সিনেমার মত ধোকা খেয়ে বোকার মত দাঁড়িয়ে রইলাম। ঠিক যেন বাংলা সিনেমার প্রেমে ব্যর্থ হওয়া নায়ক বাপ্পারাজ। প্রেমে করার আগেই ছেকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। হাতে অবশ্যই পড়ে যাওয়া আইসক্রিম ছিলো। যাই হোক, প্রেম করতে পারলাম না কিন্তু আইসক্রিম তো ডাস্টবিনে ফেলতে পারবো! মনে পড়ে গেলো সেই বিখ্যাত শিয়ালের না পাওয়া আঙুর ফলের কথা। ভাবতে লাগলাম আসলেই শিয়াল মামার কথাটাই এক্কেরে হাচা কথা 'আঙুর ফল টক'।  আইসক্রিম ডাস্টবিনে ফেলতে ফেলতে বলতে লাগলাম, আসলে প্রেমটেম ভালো না, প্রেম মানেই কষ্ট, যেহেতু আমি কষ্টটষ্ট চাইনা সেহেতু প্রেমটেম ও ভালো না। আমি ইউ রিয়েল।


No comments:

Post a Comment

গরু হারিয়ে মতি ভাই আজ অজ্ঞান

তিল কে তাল করা মতি ভাইয়ের অভ্যাস। কোন কিছু ঘটার আগে তা ফলাও করে প্রচারনা না করলে তার ঘুম আসে না। কোরবানী এসে গেছে।, সবাই ইনবক্সে মতি ভা...